Home Profile Team Services Photo Gallery Video Gallery Patient Profile Appointment Contacts Us
 
 

News & Events

 
বাতের কষ্ট শান্তি নষ্ট
December , 10, 2016
কালের কণ্ঠ

মূলত ব্যথার কারণে রোগটি বেশি কষ্ট দেয়। কিন্তু গেঁটেবাত বা বাত এমন একটি অসুখ, যা শুধু নির্দিষ্ট কোনো অংশে নয়, পুরো শরীরেই প্রভাব ফেলে। লিখেছেন ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের প্রধান কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন গেঁটেবাত আর্থ্রাইটিস বা বাতের একটি ধরন, যা বাত নামেই সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগটি আকস্মিকভাবে রাতের দিকে শুরু হয়।
তীব্র ব্যথা থাকে, অস্থিসন্ধি বিশেষ করে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে আগে থেকে কোনো লক্ষণও প্রকাশ পায় না।

এটি একটি সিস্টেমিক অসুখ, যা পুরো শরীরে প্রভাব ফেলে। রক্তে উপস্থিত অতিরিক্ত ইউরিক এসিড অস্থিসন্ধিতে জমা হওয়ার কারণেই মূলত রোগটি হয়। অনেক কারণে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বাড়ে। যেমন—মূত্রের মাধ্যমে যে পরিমাণ ইউরিক এসিড বেরিয়ে যাওয়ার কথা, তার থেকে বেশি পরিমাণ ইউরিক এসিড যখন যকৃৎ তৈরি করে তখনই তার পরিমাণ বাড়ে। অথবা খাবারের মাধ্যমে বেশি পরিমাণ ইউরিক এসিডের উৎস যেমন—লাল মাংস, ক্রিম, রেড ওয়াইন ইত্যাদি গ্রহণ করলে এবং কিডনি রক্ত থেকে যথেষ্ট পরিমাণে তা ফিল্টার করতে না পারলেও গেঁটেবাতের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। রক্তে ইউরিক এসিড বাড়লেই যে তা অস্থিসন্ধিতে জমা হবে বা সঙ্গে সঙ্গে গেঁটেবাতের লক্ষণ শুরু হবে তা নয়।

প্রাথমিক অবস্থায় ব্যথা নাও থাকতে পারে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউরিক এসিড অস্থিসন্ধিতে ক্রিস্টাল রূপে জমা হতে থাকে এবং তাতে অস্থিসন্ধি ফুলে যায়, প্রদাহ ও ব্যথা হয় এবং সেই সঙ্গে অস্থিসন্ধি ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায়। বাত সাধারণত পায়ের আঙুলের অস্থিসন্ধিকে আক্রান্ত করে।

রোগের প্রাদুর্ভাব
গেঁটেবাত সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে। মহিলাদের ক্ষেত্রে সাধারণত এটি রজোনিবৃত্তির পর অর্থাৎ ৪৫ বছরের পর দেখা দেয়। শিশু ও তরুণদের সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায় না।

কারণ ও ঝুঁকিগুলো
অস্থিসন্ধিতে ইউরিক এসিড জমার কারণেই এই বাত হয়ে থাকে। ২০ শতাংশেরও বেশি রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা যায় রোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকে। যেসব কারণে বাতরোগের ঝুঁকি বাড়ে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ডায়াবেটিস, শরীর মুটিয়ে যাওয়া, কিডনির রোগ, সিকলসেল অ্যানিমিয়া (একধরনের রক্তস্বল্পতা) ও উচ্চ রক্তচাপ। নিয়মিত অ্যালকোহল পান করলে (বিশেষ করে বিয়ার) তা দেহ থেকে ইউরিক এসিড বের করে দিতে বাধা দেয় এবং এভাবে বাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

কিছু কিছু ওষুধ যেমন—অ্যাসপিরিন, বিভিন্ন ডাই-ইউরেটিকস, লিভোডোপা, সাইক্লোস্পোরিন ইত্যাদিও গেঁটেবাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

যেসব খাবারে ইউরিক এসিড বেশি থাকে তা খেলেও রোগের ঝুঁকি বাড়ে। যেমন মাংস, সামুদ্রিক উৎস থেকে আসা খাবার, কোমল পানীয়।

অনেক সময় আঘাত পেলে বা শরীরে কোনো সার্জারি করা হলেও ইউরিক এসিড বেড়ে বাত করতে পারে।



লক্ষণ

গেঁটেবাতের লক্ষণ যখন প্রকাশ পায় তখন তা খুব দ্রুতই দেখা দেয়। যেমন—কখনো কখনো এক দিনের মধ্যেই দেখা দেয়। বেশির ভাগ সময় রাতের দিকে ব্যথা শুরু হয় এবং সাধারণত একটি অস্থিসন্ধিই আক্রান্ত হয়। বিরল ক্ষেত্রে দু-তিনটি অস্থিসন্ধিতে একসঙ্গে ব্যথা হয়। যদি অনেক সন্ধিতে একই সঙ্গে লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অনুমান করা হয় গেঁটেবাতের জন্য এ ব্যথা হচ্ছে না। গেঁটেবাতের চিকিৎসা যথাসময়ে না করা হলে অস্থিসন্ধির যথেষ্ট ক্ষতি হয়, এমনকি চলনক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

গেঁটেবাতের সমস্যা সাধারণত বৃদ্ধাঙ্গুলিতে প্রথম দেখা দেয়। প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে—
♦ প্রদাহ
♦ ব্যথা
♦ অস্থিসন্ধি লাল হয়ে যাওয়া
♦ অস্থিসন্ধি ফুলে যাওয়া ইত্যাদি
♦ বাতে পায়ের আঙুল নাড়াতে তীব্র ব্যথা হয়। অনেক সময় রোগীরা বলে থাকে যে কাপড়ের স্পর্শেও ব্যথা লাগে।

চিকিৎসা

চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হচ্ছে অস্থিসন্ধিতে ইউরিক এসিডের পরিমাণ কমিয়ে আনা এবং এর মাধ্যমে রোগের লক্ষণ এবং পরবর্তীতে ক্রিস্টাল জমে অস্থিসন্ধির যাতে ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিত করা।

গেঁটেবাতের সমস্যা একবার হয়ে তা দীর্ঘায়িত নাও হতে পারে। তাই অনেকে এ ধরনের লক্ষণ অবহেলা করেন। মনে করেন, একবার কোনো কারণে হয়েছে আর হবে না। তাই চিকিৎসায়ও রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগী কম গুরুত্ব দেন। কিন্তু ঘন ঘন আক্রান্ত হওয়ার আগেই চিকিৎসা করালে অস্থিসন্ধির স্থায়ী ক্ষতি ঠেকানো যায়। ভালো থাকা যায়।

চিকিৎসা করা হয় এমন ওষুধের মধ্যে আছে ন্যাপ্রোক্সেন ও ইন্ডোমিথাসিনের মতো এনএসএআইডি-জাতীয় ওষুধ। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা উচিত। সেই সঙ্গে খাবার নিয়ন্ত্রণও দরকার। সমস্যা বেশি হলে প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধও মুখে সেবন করা যেতে পারে অথবা আক্রান্ত স্থানে ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করা যেতে পারে। অ্যালোপিউরিনল, কোলচিসিন ও প্রোবেনেসিড আলাদাভাবে কিংবা একসঙ্গেও ব্যবহার করা যেতে পারে। রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবহার করা হলে ওষুধগুলো প্রয়োগে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।

প্রতিরোধ

প্রতিরোধই গেঁটেবাতের সমস্যা থেকে বাঁচার ভালো উপায়। বয়স ৩৫ বা তার বেশি হলে প্রতিবছর অন্তত একবার রক্তের ইউরিক এসিডের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। যদি ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকে বা পরিবারে গেঁটেবাতের ইতিহাস থাকে, তবে তখনই ডাক্তার দেখিয়ে পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া প্রচুর পানি পান করলে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে, সুষম খাবার খেলে, শরীরের ওজন ঠিক রাখলে গেঁটেবাতের ঝুঁকি কমে যায়।
 
 
 
     
  Home          Profile          Team          Services          Cost of THR & TKR          Appointment          Contact Us